জিএসটি হ্রাস এবং অর্থনৈতিক উদ্দীপনা
ভারতের অর্থনীতিতে গতি আনতে সরকার শতাধিক ভোগ্যপণ্যের উপর গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (জিএসটি) কমিয়েছে। সাবান, টুথপেস্ট, শ্যাম্পু থেকে শুরু করে ছোট গাড়ি, এয়ার কন্ডিশনার এবং টেলিভিশন পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর কর কমানো হয়েছে। এটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর একটি কৌশল, যা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সহায়তা করবে। ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, জিএসটি কাউন্সিল জটিল চার-স্তরীয় কর কাঠামোকে সহজ করে দুই স্তরে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টুথপেস্ট ও শ্যাম্পুর উপর কর ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, এবং ছোট গাড়ি, এয়ার কন্ডিশনার ও টেলিভিশনের উপর কর ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে আনা হয়েছে। এছাড়া, সব ধরনের ব্যক্তিগত জীবনবীমা ও স্বাস্থ্যবীমা সেবার উপর থেকে পুরোপুরি জিএসটি তুলে নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মিলিত রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ৪৮০ বিলিয়ন রুপি হতে পারে, তবে এটি আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। স্টেট ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সৌম্যকান্তি ঘোষের মতে, কর কাঠামো সহজ করার ফলে ভোগ ব্যয় বাড়বে এবং রাজস্ব ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে। এই সিদ্ধান্ত হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, গোদরেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, স্যামসাং, এলজি, সোনি, মারুতি, টয়োটা এবং সুজুকির মতো কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'আত্মনির্ভর ভারত' নীতির আওতায় এই কর হ্রাস বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মার্কিন শুল্ক এবং রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক শুল্ক আরোপ ভারতের অর্থনীতিতে তীব্র আঘাত হেনেছে, বিশেষ করে দেশটির রপ্তানি খাতে। ৬৫ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের ভারতীয় রপ্তানির উপর ৫০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা বস্ত্র, গহনা, সামুদ্রিক খাদ্য এবং চামড়ার মতো শিল্পগুলোকে পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে, এর ফলে সরাসরি ৪১-৪৫ বিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতি হবে এবং লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। সমালোচকদের মতে, এই সংকট কেবল বাহ্যিক চাপের কারণে নয়, বরং মোদি সরকারের ভুল অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নীতির সরাসরি পরিণতি। শ্রম-নির্ভর খাতগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেমন বস্ত্রের উপর কার্যকর শুল্ক ১২% থেকে বেড়ে ৬২% হয়েছে এবং চিংড়ির উপর ৬০% হয়েছে, যা ভারতীয় পণ্যকে বিশ্ব বাজারে অপ্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে। মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলোর উপর আরও নিষেধাজ্ঞা চাপানো হতে পারে, যা ভারত এবং চীনের মতো দেশগুলির জন্য উদ্বেগের কারণ।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বৃদ্ধি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং শুল্ক আরোপ সত্ত্বেও, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে এবং এর পরিমাণ আরও বাড়িয়েছে। আগস্ট মাসে ভারত প্রতিদিন ২০ লক্ষ ব্যারেল রাশিয়ার তেল কিনে একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে, যা জুলাই মাসের ১৬ লক্ষ ব্যারেলের চেয়ে বেশি। এর ফলে, ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০% এখন রাশিয়া থেকে আসছে। ভারতের ওএনজিসি-র চেয়ারম্যান অরুণ কুমার সিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যতক্ষণ রাশিয়ার তেল ভারতের জন্য সুবিধাজনক থাকবে, ততক্ষণ ভারত তা কিনবে। রাশিয়ার তেল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮-১০ ডলার সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে, যা ভারতের জন্য একটি বড় আর্থিক সুবিধা এবং ২০২২ সাল থেকে এই ছাড়ের কারণে ভারত প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছে। এটি ভারতের শক্তি সুরক্ষা মজবুত করছে এবং বিশ্বব্যাপী তেলের দামের অস্থিরতা থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে, যা ভারতের স্বাধীন বৈদেশিক নীতির প্রতিফলন।
মাংস রপ্তানিতে ভারতের নতুন রেকর্ড
ভারতের গরুর মাংস (গরু ও মহিষের মাংস) রপ্তানি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ভারত প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ ৩০ হাজার টন গরু-মহিষের মাংস রপ্তানি করে, যা থেকে প্রায় ৪৩০ কোটি মার্কিন ডলার আয় হয়। এর ফলে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাংস রপ্তানিকারক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার আগে এই খাতের কড়া সমালোচনা করতেন, তার শাসনামলে গরু ও মহিষের মাংস রপ্তানি প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে। এই খাতে অর্থনৈতিক লাভের কারণে অনেক হিন্দু উদ্যোক্তাও প্রবেশ করেছেন।
এসসিও বৈঠকে ভারতের বাণিজ্য ও ডিজিটাল অর্থনীতির জোর
ভ্লাদিভস্তকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে ভারত একটি উন্মুক্ত, ন্যায্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভারত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অমিতাভ কুমার ভারতের পক্ষে অংশগ্রহণ করেন এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, নির্ভরশীলতা হ্রাস এবং প্রতিকূলতা সহিষ্ণু সরবরাহ শৃঙ্খল গঠনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসঙ্গে ভারত প্রস্তাব করেছে যে, এসসিও-এর আওতায় ন্যায্য, স্বচ্ছ এবং পূর্বানুমেয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠনের জন্য নতুন কাজের ধারা চালু করা হোক। ভারত তার নিজস্ব ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, যেমন ইউপিআই, ইন্ডিয়া স্ট্যাক এবং ওএনডিসি-এর সাফল্য তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি কার্যকর দিশা দেখাতে পারে।
শেয়ার বাজারের বর্তমান অবস্থা
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মহারাষ্ট্র সরকার সরকারি ছুটি ঘোষণা করলেও, ভারতীয় শেয়ার বাজার (NSE এবং BSE) খোলা থাকবে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শেয়ার বাজারে কোনো ট্রেডিং ছুটি নেই।