জিএসটি ২.০ সংস্কার: অর্থনীতিতে নতুন গতি
ভারতীয় অর্থনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা কর) কাঠামোর ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে, যা 'জিএসটি ২.০' নামে পরিচিত। এই সংস্কারের ফলে কর ব্যবস্থা আরও সরলীকৃত হয়েছে এবং এখন দুটি প্রধান স্ল্যাব (৫% এবং ১৮%) থাকবে। এর আগে ১২% এবং ২৮% এর মতো স্ল্যাবগুলি বাতিল করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলি ২০২২ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। [৫, ১২, ২১]
এই নতুন জিএসটি কাঠামো দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, প্যাকেজড ফুড, সাবান, শ্যাম্পু, টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, টেবিলওয়্যার এবং বাইসাইকেলের মতো পণ্যের দাম কমিয়ে দেবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী হবে। [২১] এয়ার কন্ডিশনার, বড় স্ক্রিনের টিভি, ডিশওয়াশার এবং দু'চাকার গাড়ির (৩৫০সিসির নিচে) মতো ভোগ্যপণ্যের জিএসটি ২৮% থেকে কমিয়ে ১৮% করা হয়েছে, যার ফলে এই পণ্যগুলির দাম প্রায় ৭-৮% কমতে পারে। [১৯, ২১] কৃষি যন্ত্রাংশ এবং সেচের সরঞ্জামের উপর জিএসটি ১২% থেকে কমিয়ে ৫% করা হয়েছে, যা কৃষকদের খরচ কমাতে সাহায্য করবে। [২১] অন্যদিকে, পান মশলা, তামাক, এরিয়েটেড ড্রিঙ্কস এবং বিলাসবহুল পণ্যের উপর ৪০% কর বজায় থাকবে। [৫, ২১]
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেছেন যে, জিএসটি হার কমানো অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াবে এবং প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করবে, যা রপ্তানির উপর মার্কিন শুল্কের প্রতিকূল প্রভাবকে প্রশমিত করবে। [৫, ২৪] ক্রিসিল (Crisil) এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, জিএসটি হার কমানোর কারণে চলতি অর্থবছরে ভারতীয় কোম্পানিগুলির আয় ৬-৭% বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। [১৯]
মার্কিন শুল্কের প্রভাব এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় ভারতীয় অর্থনীতি, বিশেষ করে রপ্তানি খাতে, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। [৯, ১৪] তামিলনাড়ুর তিরুপুরের মতো পোশাক শিল্প কেন্দ্রগুলি এই শুল্কের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যেখানে হাজার হাজার ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি উদ্যোগ (MSMEs) তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাহত হচ্ছে। [১৮]
প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন সতর্ক করেছেন যে, এই শুল্কের কারণে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধিতে ০.৩% থেকে ০.৫% প্রভাব পড়তে পারে। [১৪] তবে, তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে এই উচ্চ শুল্ক স্বল্পস্থায়ী হবে। [১৪] অর্থমন্ত্রী সীতারামন জানিয়েছেন যে, সরকার মার্কিন শুল্ক দ্বারা প্রভাবিত রপ্তানি খাতগুলিকে সহায়তা করার জন্য একটি প্যাকেজ তৈরি করছে। [৫, ২৪]
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবর
ভারতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (Q1 FY26) ভারতের জিডিপি ৭.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পূর্বাভাসের (৬.৫-৬.৭%) চেয়ে বেশি। [২০] নীতি আয়োগের সদস্য অরবিন্দ ভিরমানি বলেছেন যে, বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জিএসটি ২.০ সংস্কার দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। [২০]
ব্যবসা জগতে, আরবান কোম্পানি (Urban Company), দেব এক্সিলারেটর (Dev Accelerator) এবং শৃঙ্গার হাউস অফ মঙ্গলসূত্র (Shringar House of Mangalsutra) সহ তিনটি কোম্পানি আগামী সপ্তাহে তাদের প্রাথমিক পাবলিক অফারিং (IPO) চালু করতে চলেছে। [১১] এছাড়া, ভারতের ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করছে, যেখানে ঋণ প্রবৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং নন-পারফর্মিং অ্যাসেটস (NPAs) হ্রাসের মতো ইতিবাচক দিকগুলি দেখা যাচ্ছে। [১৬]