ভারতের অর্থনীতিতে গতি আনতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্ক নীতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ভারত সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শতাধিক ভোগ্যপণ্যের ওপর কর কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি করা।
ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) কাউন্সিল দীর্ঘদিনের সমালোচনার মুখে থাকা জটিল কর কাঠামো সরলীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন জিএসটি চার স্তরের পরিবর্তে দুটি স্তরে (৫% এবং ১৮%) নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে সিগারেটসহ বিলাসবহুল ও ক্ষতিকর পণ্যের ওপর ৪০% আলাদা কর আরোপ করা হবে।
এই কর হ্রাসের ফলে টুথপেস্ট ও শ্যাম্পুর ওপর কর ১৮ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশ হয়েছে। ছোট গাড়ি, এয়ার কন্ডিশনার এবং টেলিভিশনের ওপর কর ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া, সব ধরনের ব্যক্তিগত জীবনবীমা ও স্বাস্থ্যবীমা সেবার ওপর থেকে জিএসটি সম্পূর্ণরূপে তুলে নেওয়া হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সম্মিলিত রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ৪৮০ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৬০০ কোটি ডলার) হতে পারে। তবে ভারতের স্টেট ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সৌম্যকান্তি ঘোষের মতে, কর কাঠামো সহজ করার ফলে ভোগ ব্যয় বাড়বে এবং এর ফলে যে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে, তার বড় অংশই পূরণ হয়ে যাবে।
এই সিদ্ধান্তে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ও গোদরেজ ইন্ডাস্ট্রিজের মতো এফএমসিজি কোম্পানিগুলো, স্যামসাং, এলজি, সনির মতো ইলেকট্রনিকস নির্মাতা এবং মারুতি, টয়োটা ও সুজুকির মতো গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে লাভবান হবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক (মোট ৫০%, যার মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক অন্তর্ভুক্ত) ভারতের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। এই কর হ্রাস নরেন্দ্র মোদীর 'আত্মনির্ভর ভারত' নীতির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা নাগরিকদের জীবনযাত্রা সহজ করতে এবং ছোট ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে সাহায্য করবে।
এই নতুন কর কাঠামো আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।