জিএসটি হারে ঐতিহাসিক পরিবর্তন: সাধারণ মানুষ ও শিল্পের জন্য স্বস্তি
ভারত সরকার জিএসটি (Goods and Services Tax) ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে, যা আগামী ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে। জিএসটি কাউন্সিল পরোক্ষ কর ব্যবস্থাকে সহজ করে চারটি স্তরের (৫%, ১২%, ১৮% এবং ২৮%) পরিবর্তে দুটি প্রধান স্তরে (৫% এবং ১৮%) বিভক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়াও, 'সিন গুডস' (যেমন- তামাক, এরেটেড ড্রিংকস) এবং বিলাসবহুল পণ্যের জন্য ৪০% এর একটি অতিরিক্ত স্ল্যাব চালু করা হয়েছে।
এই সংস্কারকে সাধারণ মানুষের জন্য "দিওয়ালি উপহার" হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এর ফলে দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য যেমন - হেয়ার অয়েল, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, সাবান, টুথব্রাশ এবং শেভিং ক্রিমের উপর জিএসটি ১৮% থেকে কমে ৫% হবে। স্বাস্থ্য ও জীবন বীমার উপর জিএসটি সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তি।
কৃষি খাতের জন্যও এটি সুসংবাদ। ট্র্যাক্টর, ট্র্যাক্টরের টায়ার ও যন্ত্রাংশ এবং বায়ো-পেস্টিসাইডের মতো কৃষি উপকরণের উপর জিএসটি ১৮% বা ১২% থেকে কমে ৫% করা হয়েছে। ছোট গাড়ি (১২০০ সিসি পর্যন্ত পেট্রোল ইঞ্জিন এবং ১৫০০ সিসি পর্যন্ত ডিজেল ইঞ্জিনযুক্ত) এবং ৩৫০ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের জিএসটি ২৮% থেকে কমে ১৮% হবে। এই পদক্ষেপগুলি মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানো এবং শিল্পকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ভারতের অর্থনীতির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অব্যাহত
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারত বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান প্রধান অর্থনীতি হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (Q1 FY26) ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৮% এ পৌঁছেছে, যা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। এই প্রবৃদ্ধি উৎপাদন, পরিষেবা, কৃষি এবং নির্মাণ সহ সমস্ত খাতে বিস্তৃত। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে।
পরিষেবা খাতের ১৫ বছরের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি
আগস্ট মাসে ভারতের পরিষেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। শক্তিশালী চাহিদার কারণে এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, যদিও এটি মূল্যবৃদ্ধিকেও ত্বরান্বিত করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্কের প্রভাব
ভারত এবং ইএফটিএ (ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থা) এর মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, যা ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। এই চুক্তির আওতায় ইএফটিএ গোষ্ঠী ভারত থেকে আগামী ১৫ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতীয় পণ্য রপ্তানির উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০% শুল্ক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর উর্জিত প্যাটেল উল্লেখ করেছেন যে ভারতীয় পণ্য রপ্তানির প্রায় ৫৫% এই শাস্তিমূলক শুল্কের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে এবং এর প্রভাব কমানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।