গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় অর্থনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের গুরুতর প্রভাব দেখা গেছে। এই শুল্কের কারণে ভারতীয় পণ্য, বিশেষত বস্ত্র, রত্ন ও গহনা, এবং চিংড়ি রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই শুল্ক আরোপের ফলে ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা এক দিনে ০.৬৫ শতাংশ পতন দেখেছে এবং আগস্ট মাসে মোট ০.৬৮ শতাংশ দরপতন হয়েছে। অনেক ভারতীয় ব্যবসায়ী এই শুল্ক এড়াতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের ব্যবসা সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন।
এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে ভারত খুব শীঘ্রই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন, যা দেশের আর্থিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এবং যার অধীনে ৫৫ কোটিরও বেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত পাঁচ ত্রৈমাসিকের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিছু সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারত ২০৩৮ সালের মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
মার্কিন শুল্ক এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের পুঁজি প্রত্যাহারের কারণে ভারতীয় শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আগস্ট মাসে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় 'মেক ইন ইন্ডিয়া' এবং 'ভোকাল ফর লোকাল' উদ্যোগের উপর জোর দিচ্ছে, পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের জন্য বিকল্প বাজার এবং আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করছে।
এছাড়াও, সেপ্টেম্বরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নিয়মে পরিবর্তন আসতে চলেছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে। এর মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড আপডেট, আয়কর রিটার্ন (ITR), ইউপিএস (UPS) এবং ক্রেডিট কার্ডের নিয়মে পরিবর্তন, এবং এলপিজি (LPG) গ্যাসের দামের সম্ভাব্য পরিবর্তন।