ভারতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী বৃদ্ধি:
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP) ৭.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের সকল পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গেছে। এটি গত পাঁচ ত্রৈমাসিকের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি এবং ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান প্রধান অর্থনীতির আসনে বসিয়েছে। এই অভূতপূর্ব বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, নির্মাণ খাতের প্রসার, কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উন্নতি এবং পরিষেবা খাতের শক্তিশালী ভূমিকা। নমিনাল জিডিপি ৮.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষি খাতে প্রকৃত জিভিএ বৃদ্ধির হার ছিল ৩.৭ শতাংশ। সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
অর্থনীতির ভবিষ্যৎ展望:
একটি বহুজাতিক অ্যাকাউন্টিং সংস্থা আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়ং (EY) এর সমীক্ষা অনুসারে, ২০৩৮ সালের মধ্যে ভারত ক্রয়ক্ষমতার সমতা (PPP) অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতি ২০.৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এবং ২০৩৮ সালের মধ্যে তা ৩৪.২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। ভারতের তরুণ ও দক্ষ কর্মীবাহিনী, উচ্চ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার এবং তুলনামূলকভাবে টেকসই ঋণ প্রোফাইল এই দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রাও জানিয়েছেন যে ভারত খুব শীঘ্রই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে।
মার্কিন শুল্কের প্রভাব:
২৭শে আগস্ট থেকে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ৫০% শুল্ক কার্যকর করেছে। এর মধ্যে ২৫% বেসলাইন শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ২৫% জরিমানা অন্তর্ভুক্ত। এই শুল্কের ফলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশেষ করে পোশাক, তৈরি পোশাক, বস্ত্র, জুয়েলারি এবং রত্ন খাতে। তবে, ইওয়াই জানিয়েছে যে মার্কিন শুল্ক ভারতের জিডিপিতে প্রায় ০.৯% প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যের কারণে এর প্রভাব ০.১%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। নয়াদিল্লি এই শুল্ককে "অন্যায্য, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য" বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
শেয়ার বাজারের আপডেট:
৩০শে আগস্ট শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকলেও বিনিয়োগকারীদের আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। নীতিগত সিদ্ধান্ত, আসন্ন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কোম্পানি সংশ্লিষ্ট খবর বাজার ঘিরে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও সেনসেক্স ও নিফটি সম্পর্কিত বড় পতনের খবর এসেছে, তবে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নয়, বরং পূর্ববর্তী সময়ের। বাজারে আস্থা ফেরাতে সরকারের বড় উদ্যোগ এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে থাকা কিছু কোম্পানির শেয়ার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।