মার্কিন শুল্কের প্রভাব এবং ভারতীয় শেয়ারবাজারের পতন:
গত ২৭ আগস্ট, ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০% শুল্ক ভারতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার 'শাস্তি' হিসেবে পূর্বের ২৫% শুল্কের ওপর আরও ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা মোট শুল্কের হারকে ৫০ শতাংশে নিয়ে গেছে। এর ফলে, ভারতীয় পণ্য রপ্তানিতে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশেষ করে বস্ত্র, রত্ন ও গয়না, সামুদ্রিক খাবার, চামড়াজাত পণ্য এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ খাতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বছর যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই শুল্ক আরোপের কারণে ভারতীয় শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স সূচক ৫০৮ পয়েন্ট এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি সূচক ১৫৭ পয়েন্ট কমেছে। হেভিওয়েট কোম্পানিগুলোর শেয়ার সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে। যদিও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন, দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সেই ঘাটতি পূরণে এগিয়ে এসেছেন।
ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস:
এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটি আশার খবর এসেছে। বেসরকারি সংস্থা ইওয়াই (EY)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ২০৩৮ সালের মধ্যেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে, যা ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে (PPP) ৩৪.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। এই পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। ভারতের এই অর্থনৈতিক শক্তির পেছনে মূল কারণ হিসেবে এর বিশাল কর্মক্ষম জনসংখ্যা (২০২৫ সালে গড় বয়স ২৮.৮ বছর), উচ্চ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার এবং সরকারি ঋণ-জিডিপি অনুপাতের ক্রমশ হ্রাসকে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের পদক্ষেপ এবং বিকল্প বাজার অনুসন্ধান:
মার্কিন শুল্কের ধাক্কা সামলাতে ভারত সরকার কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা করছে এবং এটিকে একটি অস্থায়ী সমস্যা হিসেবে দেখছে। একই সাথে, সরকার রপ্তানিকারকদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং বিকল্প বাজার খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা এবং ইউরোপের মতো অঞ্চলগুলিতে নতুন বাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানি বাড়াতে ভারত জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ ৪০টি দেশের সাথে যোগাযোগ করছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি 'আত্মনির্ভর ভারত' (স্বনির্ভর ভারত) এবং 'মেড ইন ইন্ডিয়া' পণ্য ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা শিল্প এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার উপর শুল্কের প্রভাব প্রশমিত করতে এবং অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়াতে সাহায্য করবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে ভারতের জন্য রপ্তানি বৈচিত্র্যই এখন সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ।