মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০% শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে। এই শুল্ক, যা ২৭শে আগস্ট, ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে, ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, বিশেষ করে বস্ত্র, রত্ন ও গহনা, চিংড়ি, চামড়া ও পাদুকা, এবং রাসায়নিক খাতের উপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই শুল্কের কারণে ভারতের অর্থনীতিতে জিডিপি বৃদ্ধির হার ০.৩-০.৮% হ্রাস পেতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা অনুমান করছেন। যদিও অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং রপ্তানির উপর তুলনামূলকভাবে কম নির্ভরতা এই প্রভাবকে কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে, তবে এইচডিএফসি ব্যাংক অনুমান করেছে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬% বা তার নিচে নেমে যেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় স্টক মার্কেট, সেনসেক্স এবং নিফটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এই প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও, ভারতীয় অর্থনীতি ২০২৪-২৫ সালে ৬.৫% জিডিপি বৃদ্ধি সহ শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে এবং এটি বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) তাদের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুল্কের ধাক্কা শোষণ করতে পারবে বলে আশা করছে। ইওয়াই (EY) এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ২০৩৮ সালের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতা সমতা (PPP) এর দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
মার্কিন শুল্কের প্রভাব মোকাবিলায় ভারত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান এবং ৪০টি দেশে বস্ত্র রপ্তানি বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি 'মেড ইন ইন্ডিয়া' পণ্য ক্রয়ের উপর জোর দিয়ে দেশীয় উৎপাদন ও আত্মনির্ভরশীলতার মন্ত্র প্রচার করছেন। এছাড়াও, সরকার পিএম স্বনিধি (PM SVANidhi) প্রকল্প ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে, যার ফলে রাস্তার বিক্রেতাদের জন্য ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
ভারতীয় রপ্তানিকারকরা সরকার এবং রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছেন, যার মধ্যে সুদের ভর্তুকি প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করা, কর কমানো এবং ঋণ পরিশোধে স্থগিতাদেশের মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত। ফিচ রেটিংস (Fitch Ratings) ভারতের সার্বভৌম রেটিং 'BBB-' এ অপরিবর্তিত রেখেছে, যা শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল বাহ্যিক আর্থিক অবস্থানের উপর ভিত্তি করে। শিল্পে কর্মসংস্থান FY24-এ ৫.৯২% বৃদ্ধি পেয়ে ১.৮৪ কোটি হয়েছে, যা অর্থনীতির একটি ইতিবাচক দিক।