মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে মোট শুল্কের হার ৫০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা ২৭শে আগস্ট, ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। [২, ৪, ৭, ১১, ১৬, ১৭] এই পদক্ষেপের মূল কারণ হিসেবে ভারতের রাশিয়ান তেল এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় অব্যাহত রাখাকে উল্লেখ করা হয়েছে। [৭, ৮, ১১, ১২, ১৬, ১৮] এই শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
প্রভাবিত খাত ও রপ্তানির উপর প্রভাব
এই নতুন শুল্কের কারণে ভারতের বস্ত্র, রত্ন ও গহনা, চিংড়ি, কার্পেট, আসবাবপত্র, চামড়াজাত পণ্য এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (MSMEs) সহ শ্রমঘন খাতগুলি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। [২, ৭, ১০, ১১, ১৪, ১৭] গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI) এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৬২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ভারতীয় রপ্তানি এই শুল্কের আওতায় আসবে। [২, ১৪] কিছু অনুমান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় রপ্তানি ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে [১৪], এবং ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলিতে রপ্তানি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। [২]
অর্থনৈতিক প্রভাব ও বাজার প্রতিক্রিয়া
অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ০.৩-০.৮ শতাংশ কমে যেতে পারে। [৪] যদি এই শুল্ক অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ বা তার নিচে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। [৪] এই ঘোষণার পর ভারতীয় শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে; সেনসেক্স ১.০৪ শতাংশ এবং নিফটি ১.০২ শতাংশ কমে গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন রেকর্ড করেছে। ভারতীয় রুপিও দুর্বল হয়েছে। [৩, ৯] বিশেষ করে, রিয়েলটি, পিএসইউ ব্যাংক এবং কনজিউমার ডিউরেবলস সূচকগুলিতে ১.৮-২.২ শতাংশ পতন হয়েছে। [৯]
সরকার ও রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার প্রতিক্রিয়া
ভারতের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় (PMO) রপ্তানিকারকদের উপর শুল্কের প্রভাব পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছে। [২] রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেছেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলিকে সহায়তা করার জন্য নীতিগত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। [৫] তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে ভারতের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী এবং আগামী বছরগুলিতে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। [৬]
ভারত সরকার রপ্তানিকারকদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের কথা বিবেচনা করছে। [৫, ১০, ১৪, ১৫] ভারত এই মার্কিন পদক্ষেপকে 'অন্যায় ও অযৌক্তিক' বলে আখ্যায়িত করেছে এবং জানিয়েছে যে তারা তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ অনুযায়ী তেল আমদানি করে। [১২, ১৬] এই পরিস্থিতিতে ভারত চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে, এবং চীন ভারতের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। [১৯] এছাড়াও, নতুন শুল্ক নীতির কারণে ভারতীয় ডাক বিভাগ সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডাক পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। [২১]
প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি
এই শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা হ্রাস পাবে। চীন, বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের মতো দেশগুলি থেকে আসা পণ্যের তুলনায় ভারতীয় পণ্যগুলি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। [১০, ১৪, ১৭] উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রে একটি ভারতীয় শার্টের দাম ১০ ডলার থেকে বেড়ে ১৬.৪ ডলার হবে, যেখানে একই শার্ট চীন থেকে ১৪.২ ডলার, বাংলাদেশ থেকে ১৩.২ ডলার এবং ভিয়েতনাম থেকে ১২ ডলারে পাওয়া যাবে। [১০, ১৪, ১৭]