জাতীয় মহাকাশ দিবস ও মহাকাশ গবেষণায় ভারতের অগ্রগতি:
২৩শে আগস্ট, ২০২৩ তারিখে চন্দ্রযান-৩ মিশনের বিক্রম ল্যান্ডারের চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফল অবতরণের স্মরণে প্রতি বছর ২৩শে আগস্ট 'জাতীয় মহাকাশ দিবস' পালিত হয়। এটি ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত ছিল, যা ভারতকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণকারী প্রথম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই বছর, ২০২৫ সালের জাতীয় মহাকাশ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল 'আর্যভট্ট থেকে গগনযান: প্রাচীন জ্ঞান থেকে অসীম সম্ভাবনা' ('Aryabhatta to Gaganyaan: Ancient Wisdom to Infinite Possibilities')।
চন্দ্রযান-৩ থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
চন্দ্রযান-৩ মিশন চাঁদের ভূতত্ত্ব, গঠন এবং পরিবেশ সম্পর্কে বৈশ্বিক ধারণাকে আরও গভীর করেছে। বিক্রম ল্যান্ডারের সিসমিক সেন্সরগুলি চাঁদের টেকটোনিক কার্যকলাপ নিশ্চিত করে অপ্রত্যাশিত কম্পন সনাক্ত করেছে। এটি পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৮২°C পর্যন্ত হলেও মাত্র ১০ সেমি নিচে মাইনাস ১৬৮°C পর্যন্ত নেমে যাওয়ার বিস্তারিত মানচিত্রও তৈরি করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ISRO ঘোষণা করেছে যে দক্ষিণ মেরুর ঢালু অঞ্চলগুলিতে জলের বরফ স্থিতিশীলভাবে থাকতে পারে এমন তাপমাত্রা বজায় থাকে, যা ভবিষ্যতের চন্দ্র সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাবনাকে প্রসারিত করে।
ভারতের ভবিষ্যৎ মহাকাশ পরিকল্পনা:
- গগনযান মিশন: গগনযান মানব মহাকাশ কর্মসূচির অধীনে প্রথম মানববিহীন মিশনটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ভায়ো মিত্র (Vyommitra) নামক একটি অর্ধ-মানব রোবট থাকবে। ২০২৭ সালে ভারত তার প্রথম মানব মহাকাশ যাত্রা গগনযান মিশনের অধীনে করবে।
- চন্দ্রযান-৪ ও চন্দ্রযান-৫: ISRO ২০২৮ সালের মধ্যে চন্দ্রযান-৪ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রাখে। চন্দ্রযান-৫ জাপানি মহাকাশ সংস্থা JAXA-এর সাথে একটি যৌথ মিশন হবে।
- ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন: ভারত ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন 'ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন' (Bharatiya Antariksh Station) স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- চাঁদে মানব মিশন: ভারত ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে একজন নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
- অন্যান্য মিশন: ISRO আগামী ১৫ বছরে ১০০টিরও বেশি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে ৭০ শতাংশ ছোট উপগ্রহ হবে। এর মধ্যে মঙ্গল ও শুক্র গ্রহেও অভিযান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। NISAR (NASA-ISRO Synthetic Aperture Radar) স্যাটেলাইট, যা এই বছরের শুরুতে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সেটিও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
মহাকাশ খাতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা:
সরকার ২০২০ সালে ভারতীয় জাতীয় মহাকাশ প্রচার ও অনুমোদন কেন্দ্র (IN-SPACe) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মহাকাশ খাতকে বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য উন্মুক্ত করেছে। এর ফলে ৩০০টিরও বেশি স্টার্টআপ নিবন্ধিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বেসরকারি খাত এবং স্টার্টআপগুলিকে প্রতি বছর ৫০টি রকেট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যান্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক খবর:
- সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: SEMICON India ২০২৫ সেমিকন্ডাক্টর এবং ইলেকট্রনিক্স ডোমেনে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির উপর জোর দেবে, যা ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করবে।
- OpenAI ভারতে: OpenAI দিল্লিতে তাদের প্রথম ভারতীয় কার্যালয় খুলতে চলেছে।
- Navic স্যাটেলাইট: দেশীয় ঘড়ি (indigenous clocks) তৈরির বিলম্বের কারণে ISRO-এর ত্রুটিপূর্ণ Navic স্যাটেলাইট প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা বিলম্বিত হচ্ছে।
জাতীয় মহাকাশ দিবস এবং সাম্প্রতিক ঘোষণাগুলি ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যা দেশের অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় তার ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বকে তুলে ধরে।