গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় অর্থনীতি এবং ব্যবসায়িক খাতের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বৃদ্ধি করায় এবং বাণিজ্য আলোচনা বাতিল করায় ভারত পালটা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রগামী ডাক পরিষেবা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীন ভারতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন শুল্ক এবং ভারতের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল ক্রয় অব্যাহত রাখার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫% থেকে ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, ভারত ২৫শে আগস্ট, ২০২৫ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ ডাক চালান সাময়িকভাবে গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্ডিয়া পোস্ট জানিয়েছে যে, মার্কিন শুল্ক নিয়মে বড় পরিবর্তনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে ২৯শে আগস্ট থেকে ৮০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার করা হবে। শুধুমাত্র ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত উপহার সামগ্রী শুল্কমুক্ত থাকবে।
এদিকে, ২৫ থেকে ২৯শে আগস্টের মধ্যে নির্ধারিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের প্রতিনিধিদের মধ্যে বাণিজ্য বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সার্জিও গোরকে ভারতে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন, যার দায়িত্ব হবে এই 'অস্বস্তিকর পরিস্থিতি' সামাল দেওয়া। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভারত তার কৃষক এবং ক্ষুদ্র উৎপাদকদের স্বার্থে কোনো আপস করবে না, বিশেষ করে কৃষি ও দুগ্ধ খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার উন্মুক্ত করার দাবিতে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়ান তেল ক্রয় ভারতের জাতীয় এবং বৈশ্বিক স্বার্থে, যা তেলের দাম স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে।
ভারত-চীন সম্পর্কের উষ্ণতা
মার্কিন শুল্কের মুখে চীন ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিকে 'বুলিং' বলে সমালোচনা করেছে। সম্প্রতি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই'র ভারত সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই সফরে সরাসরি ফ্লাইট চালু, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সীমান্ত বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীন ভারত ও চীনকে 'এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দ্বৈত ইঞ্জিন' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং চীনা বাজারে আরও বেশি ভারতীয় পণ্যের প্রবেশকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন চাপই ভারতকে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করছে।
যদিও এই 'ব্রোম্যান্স' কতদিন টিকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তবে এটি স্পষ্ট যে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত তার অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বিকল্প পথ খুঁজছে।