GK Ocean

📢 Join us on Telegram: @current_affairs_all_exams1 for Daily Updates!
Stay updated with the latest Current Affairs in 13 Languages - Articles, MCQs and Exams

September 28, 2025 ভারতীয় অর্থনীতি ও ব্যবসা: জিএসটি সংস্কার, মার্কিন শুল্ক এবং টাকার স্থিতিশীলতা

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় অর্থনীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জিএসটি-তে আরও ছাড়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের করের বোঝা কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে, বিশেষ করে ওষুধ শিল্পে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এছাড়াও, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ডলার বিক্রি করে টাকার মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছে এবং ই-কমার্স নীতিতে শিথিলতার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

জিএসটি সংস্কার এবং কর হ্রাস: মধ্যবিত্তের জন্য স্বস্তির বার্তা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে জনগণের ওপর করের বোঝা আরও কমবে। নতুন জিএসটি সংস্কারের অধীনে, সরকার জিএসটি হার ব্যবস্থাকে সংশোধন করে পূর্বের বহু-স্ল্যাব ব্যবস্থা থেকে ৫% এবং ১৮% এর দুটি স্ল্যাবে সরল করেছে। খাবার, ওষুধ, সাবান এবং স্বাস্থ্য বিমার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস এখন থেকে করমুক্ত হবে অথবা সর্বনিম্ন ৫% করের স্ল্যাবের অধীনে আসবে। এই সংস্কারের ফলে ভারতীয়দের প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ক ও শুল্কের প্রভাব

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা চলমান থাকলেও, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারতের প্রতি কঠোর মনোভাব দেখা যাচ্ছে। সাবেক বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক মন্তব্য করেছেন যে, ভারতকে মার্কিন বাজারের সুবিধা নিতে হলে তাদের "প্রেসিডেন্টের সঙ্গে খেলতে হবে"। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের পণ্যের ওপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে, যার মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার প্রতিক্রিয়ায় ২৫% শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে, ব্র্যান্ডেড ও পেটেন্টযুক্ত ওষুধের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের জন্য বড় ধাক্কা। ভারতের ওষুধ কোম্পানিগুলির প্রায় ৪০ শতাংশ আয় মার্কিন বাজার থেকে আসে।

টাকার স্থিতিশীলতা ও ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) গত জুলাই মাসে ২.৫৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে, যা গত ১১ বছরে প্রথমবারের মতো ডলার বিক্রির ঘটনা। টাকার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে প্রতি ডলারে প্রায় ৮৮.৬৭ টাকা। এই পদক্ষেপকে ডলারের ওপর ভারতের নির্ভরশীলতা কমানোর একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের প্রভাব ক্রমশ কমতে শুরু করেছে। যদিও ভারতের আমদানি বিল এবং বাণিজ্যিক ঘাটতি বাড়ছে, দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রয়েছে, যা অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

ই-কমার্স নীতিতে শিথিলতার প্রস্তাব

ভারত সরকার বিদেশি বিনিয়োগ নীতি শিথিল করার জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে অ্যামাজনের মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি ভারতীয় বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য কিনে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে তা বিক্রি করতে পারবে। বর্তমানে, বিদেশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারতে সরাসরি পণ্য বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয় না, তারা কেবল ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল ই-কমার্স রপ্তানি বৃদ্ধি করা, তবে ভারতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এর বিরোধিতা করছেন, কারণ তারা মনে করেন এটি তাদের ব্যবসার জন্য হুমকি হতে পারে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে সতর্কতা

অর্থ মন্ত্রকের মাসিক রিপোর্টে কর্পোরেট কর ও ব্যক্তিগত আয়কর কমানোর পর জিএসটি ছাঁটাইকে তৃতীয় কর সংস্কার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মূল্যবৃদ্ধি কমাতে এবং আর্থিক বৃদ্ধিকে ঠেলে তুলতে সাহায্য করবে। তবে, মন্ত্রক সতর্ক করেছে যে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি এখনও বহাল রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসার উচ্চ খরচ এবং রপ্তানিতে মার্কিন শুল্কের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা কর্মসংস্থান, আয় এবং চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Back to All Articles