GK Ocean

📢 Join us on Telegram: @current_affairs_all_exams1 for Daily Updates!
Stay updated with the latest Current Affairs in 13 Languages - Articles, MCQs and Exams

September 28, 2025 ভারতীয় অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক সংবাদ: ডলার নীতি, শেয়ার বাজারের পতন এবং ই-কমার্স নীতিতে পরিবর্তন

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় অর্থনীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ডলারের উপর নির্ভরতা কমাতে এবং রুপির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ডলার বিক্রি করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন শুল্কনীতি এবং H1B ভিসা নিয়মের পরিবর্তনের কারণে ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড় পতন দেখা গেছে। এছাড়া, ই-কমার্স নীতিতে শিথিলতা আনার প্রস্তাব এবং রাশিয়ার তেল ক্রয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

RBI-এর ডলার নীতি এবং রুপির স্থিতিশীলতা

রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) গত জুলাই মাসে ২.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে, যা গত ১১ বছরে প্রথমবারের মতো ডলার কেনার প্রবণতা থেকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এই পদক্ষেপটি ভারতীয় রুপির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং ডলারের উপর দেশের অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য প্রায় ৮৮.৬৭ টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, যার লক্ষ্য হলো বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্য হ্রাস করা এবং BRICS দেশগুলির সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা।

ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড় পতন

গত কয়েকদিনে ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সেনসেক্স ৭৩৩.২২ পয়েন্ট এবং নিফটি ২৩৬.১৫ পয়েন্ট কমেছে, যা টানা পাঁচ দিনের পতনের ধারা। আইটি এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির শেয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং H1B ভিসা নিয়মের পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন এবং ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন, যা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বড় ধাক্কা। এছাড়াও, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে পুঁজি তুলে নিচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ই-কমার্স নীতিতে পরিবর্তন এবং আমাজনের সুবিধা

ভারত সরকার বিদেশি বিনিয়োগ নীতি শিথিল করার জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে অ্যামাজনের মতো ই-কমার্স সংস্থাগুলি সরাসরি ভারতীয় বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য কিনে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারবে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল রপ্তানি বৃদ্ধি করা, তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এর বিরোধিতা করছেন। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে বড় ই-কমার্স সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। প্রস্তাবিত 'থার্ড-পার্টি এক্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন মডেল' এই সমস্যার সমাধান করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট রপ্তানি সংস্থা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত হয়ে সমস্ত নিয়মকানুন পরিচালনা করবে।

রাশিয়ার তেল ক্রয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে রাশিয়ার তেল ক্রয় কমাতে চাপ দিচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তির শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাশিয়ার তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যার ফলে মোট শুল্ক ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে তেল কেনা কমিয়ে দিক। ভারত অবশ্য নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে, যুক্তি দিয়ে যে অর্থনীতির জন্য তেল আমদানি জরুরি।

নন-বাসমতী চাল রপ্তানিতে নতুন শর্ত

নন-বাসমতী চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত সরকার নতুন শর্ত আরোপ করেছে। এখন থেকে এই ধরনের চাল রপ্তানির জন্য কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (APEDA) কাছে নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে কয়েকটি রাজ্যে ফসলের ক্ষতির খবরের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Back to All Articles