মার্কিন শুল্কে ভারতীয় শেয়ারবাজারে বড় পতন
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) ভারতীয় শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্র্যান্ডেড বা পেটেন্টযুক্ত ওষুধের উপর ১০০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা করার পর এই পতন দেখা যায়। একদিনেই সেনসেক্স ৭৩৩.২২ পয়েন্ট কমে ৮০,৪২৬.৪৬-এ এবং নিফটি ২৩৬.১৫ পয়েন্ট কমে ২৪,৬৫৪.৭০-এ নেমে আসে। এর ফলে বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির শেয়ারমূল্য থেকে প্রায় ১৬ লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে। বিশেষ করে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি যেমন সান ফার্মা এবং ডক্টর রেড্ডির শেয়ার ৩% এবং ২% কমেছে। তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে টেক মাহিন্দ্রা, টিসিএস এবং উইপ্রো-র শেয়ারের দর কমেছে। এই শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ওষুধের দাম বাড়বে এবং ভারতীয় সংস্থাগুলির বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।
নন-বাসমতী চাল রপ্তানিতে ভারতের নতুন নীতি
ভারত নন-বাসমতী চাল রপ্তানিতে নতুন শর্ত আরোপ করেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতি অনুযায়ী, এখন থেকে নন-বাসমতী চাল রপ্তানির প্রতিটি চুক্তির জন্য কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (APEDA)-এর সাথে নিবন্ধন করতে হবে। ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল রপ্তানি নীতিতে স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এই নতুন শর্ত বাংলাদেশের মতো দেশগুলির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে, যারা ভারতের নন-বাসমতী চালের অন্যতম প্রধান আমদানিকারক। এর ফলে চাল আমদানির গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং খরচও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা খুচরা বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিবৃতি ও কর হ্রাস
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন যে, আগামী দিনে কর আরও কমানো হবে, যা মানুষের সঞ্চয় বাড়াতে এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, চলতি অর্থবর্ষ থেকে বছরে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর কোনো কর দিতে হচ্ছে না এবং ২০২৫ সালের জিএসটি সংস্কারের ফলে দেশবাসীর হাতে মোট ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও বিশ্ব পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতীয় অর্থনীতির ধারাবাহিক শক্তি বৃদ্ধির কথা বলেছেন।
আইএমএফের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির হার ৬.৫% হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। আইএমএফের মতে, ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে খুবই মজবুত ও স্থিতিশীল, যা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম। এটি বিশ্বের মানচিত্রে ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিকাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।