মার্কিন শুল্ক ও শেয়ারবাজারের অস্থিরতা:
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় শেয়ারবাজার অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে এবং টাকার মূল্য কমেছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও ভূ-রাজনৈতিক চাপকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষ করে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য যে ভারত ও চীন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার 'প্রধান অর্থদাতা', এর প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যার ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যদিও ভারত সরকার এই শুল্ককে 'অযৌক্তিক ও অনুচিত' বলে মন্তব্য করেছে, তবে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে, এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিং-এর মতো মার্কিন রেটিং সংস্থাগুলি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে, যা শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং অনুকূল বর্ষার কারণে সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জিএসটি সংস্কার (জিএসটি ২.০):
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন জিএসটি ২.০। এই সংস্কারের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু পণ্যের দাম কমেছে। বিশেষ করে, দুই চাকার যান, স্বাস্থ্য ও জীবন বিমার প্রিমিয়ামের উপর জিএসটি শূন্য করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে 'জিএসটি সাশ্রয় উৎসব' হিসেবে প্রচার করছে। তবে, কোক, পেপসি, সিগারেট এবং কিছু বিলাসবহুল পণ্যের দাম বেড়েছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা মহারাজগঞ্জ বাজার পরিদর্শন করে জানিয়েছেন যে নতুন জিএসটি হার কার্যকর হওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতারা খুশি এবং পণ্যসামগ্রীর দাম কমেছে।
ভারতে কোটিপতিদের সংখ্যা বৃদ্ধি:
'মার্সিডিজ-বেঞ্জ হুরুন ইন্ডিয়া ওয়েলথ ২০২৫' রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে বার্ষিক ১ কোটি টাকার বেশি আয় করা ব্যক্তির সংখ্যা গত ছয় বছরে প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ২০১৭-১৮ সালে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার, ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে ২.২৭ লক্ষ হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নতি, নতুন ব্যবসা এবং শেয়ারবাজারের বৃদ্ধির কারণেই মানুষের আয় বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে, যা ভারতকে বিশ্বে দ্রুততম সম্পদ সৃষ্টিকারী দেশগুলির মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে।
দাবিহীন ব্যাঙ্ক আমানত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ:
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) ব্যাঙ্কগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে যে, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে দাবিহীন পড়ে থাকা ৭৮ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত তিন মাসের মধ্যে খুঁজে বের করে প্রকৃত দাবিদারদের কাছে ফেরত দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য 'উদগম' নামে একটি পোর্টালও চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের দাবিহীন আমানতের তথ্য পেতে পারবেন।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি বৃদ্ধি:
মার্কিন শুল্ক সত্ত্বেও, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে থেকে ভারতে রপ্তানি বেড়েছে। ভারতীয় স্থলবন্দরে নিষেধাজ্ঞার পর এটি ঘটেছে। যদিও সমুদ্রপথে খরচ বেশি, তবুও বিকল্প না থাকায় ভারতীয় আমদানিকারকরা বাংলাদেশ থেকে পণ্য কেনা চালিয়ে যাচ্ছেন।