জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে জেলেনস্কির প্রশ্ন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি জাতিসংঘের কার্যকারিতা এবং সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তা প্রদানে এর ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি গাজা, সিরিয়া এবং ইউক্রেনের মতো বড় সংকটগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অপর্যাপ্ত সমর্থনের কথা উল্লেখ করেছেন। জেলেনস্কি বিশেষভাবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, রাশিয়ার স্থায়ী সদস্যপদ এবং ভেটো ক্ষমতা এই সংস্থাকে অকার্যকর করে তুলেছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক আইন তখনই কার্যকর হয় যখন শক্তিশালী মিত্ররা এটিকে রক্ষা করতে প্রস্তুত থাকে।
ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার এবং গাজা সংঘাত
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন যে, গাজা সংঘাতে সরাসরি জড়িত থাকার কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে পারেন না। ২৩ সেপ্টেম্বর একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ এই মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি বলেন যে এই সংঘাত বন্ধ না হলে নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রশ্নই ওঠে না। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প নিজেও জাতিসংঘের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের গাজায় যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ফলপ্রসূ বৈঠক নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এই বৈঠকে যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি এবং হামাসবিহীন একটি নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাজ্য কর্তৃক ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি
যুক্তরাজ্যের সরকারি মানচিত্রে প্রথমবারের মতো 'স্টেট অব প্যালেস্টাইন' বা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নাম যুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ঘোষণার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে মানচিত্র হালনাগাদ করা হয়েছে এবং ভ্রমণ নির্দেশিকা, দূতাবাসের তালিকা ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নথিতেও এখন স্পষ্টভাবে 'স্টেট অব প্যালেস্টাইন' লেখা আছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এটি যুক্তরাজ্যের অবস্থানের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতিসংঘে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বান
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সদর দপ্তরে 'টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রথম দ্বিবার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে অর্থায়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন' শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানান এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি-৫) অর্জনে একটি বাধ্যতামূলক বৈশ্বিক জবাবদিহিতা কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেন। ড. ইউনূস বলেন, দারিদ্র্য কারো স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সম্পদের ন্যায্য প্রবেশাধিকার হলো ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি। তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিনিয়োগের ঘাটতি পূরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং পাঁচটি অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করেন, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্থায়নকে শক্তিশালী করবে।