শেয়ার বাজারের পারফরম্যান্স:
মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। সেনসেক্স ৫৮ পয়েন্ট কমে ৮১,১০২ পয়েন্টে এবং নিফটি ৩৩ পয়েন্ট কমে ২৫,১৭০ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। যদিও মিডক্যাপ সূচক ও আইটি সেক্টরে কিছুটা চাপ দেখা গেছে, তবে ব্যাঙ্ক নিফটি ২২৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫৫,৫০০ অতিক্রম করেছে। দিনের বেলায় সূচকে ব্যাপক ওঠানামা ছিল, যেখানে সেনসেক্স প্রায় ৬০০ পয়েন্টের কাছাকাছি পরিবর্তিত হয়েছে। আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নরের সুদের হার সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রভাব বিশ্ব বাজারে পড়েছে। অটো সেক্টরে মারুতি সুজুকি, হুন্ডাই, টাটা মোটরস এবং মাহিন্দ্রার মতো সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম বেড়েছে।
জিএসটি সংস্কার ও উৎসবের মরসুম:
কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী জিএসটি হার হ্রাসকে স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের বৃহত্তম সংস্কার হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া এই সংস্কারের ফলে প্রায় ৩৭৫টি পণ্য ও পরিষেবার উপর করের হার কমানো হয়েছে। বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এবং শিক্ষা উপকরণের উপর জিএসটি হার ৫ শতাংশ বা শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। ছোট গাড়ি, টেলিভিশন এবং এয়ার কন্ডিশনারের উপর কর ২৮% থেকে কমে ১৮% হয়েছে। এই বড়সড় করছাড় উৎসবের মরসুমে (যেমন দুর্গাপূজা) মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে এবং অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়াতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
'মেড ইন ইন্ডিয়া' প্রচার ও স্বদেশী আন্দোলন:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে বিদেশি পণ্য বর্জন করে ভারতে তৈরি পণ্য কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর এই প্রচারকে আবারও সামনে আনা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘও (আরএসএস) স্বদেশী পণ্যের উপর জোর দিয়ে অর্থনীতির জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করছে বলে জানা গেছে।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক:
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ করার পর এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল শীঘ্রই ওয়াশিংটন সফরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমানোর প্রচেষ্টার অংশ।
আইটি সেক্টরের চ্যালেঞ্জ:
নতুন মার্কিন ভিসা নীতি এবং আউটসোর্সিং পেমেন্টের উপর ২৫% কর আরোপের প্রস্তাব ভারতের আইটি শিল্পকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই পদক্ষেপগুলি আইটি খাতের অনসাইট-অফশোর মডেল, মুনাফা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কোটিপতিদের সংখ্যা বৃদ্ধি:
মার্সিডিজ-বেঞ্জ হুরুন ইন্ডিয়া ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী, ভারতে উচ্চ আয়ের করদাতাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ছয় বছরে বার্ষিক ১ কোটি টাকার বেশি আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া করদাতার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়ে ২.২৭ লাখ হয়েছে। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ভারত বিশ্বের দ্রুততম সম্পদ সৃষ্টিকারী দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। মুম্বাই এবং কলকাতা ভারতের ধনী শহরগুলির মধ্যে রয়েছে, যেখানে কলকাতার স্থান পঞ্চম।
জাপানি সংস্থার ক্রেডিট রেটিং আপগ্রেড:
জাপানের রেটিং সংস্থা 'রেটিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনফরমেশন' (আরঅ্যান্ডআই) ভারতের ক্রেডিট রেটিং 'BBB' থেকে বাড়িয়ে 'BBB+' করেছে। সংস্থাটি দীর্ঘমেয়াদে ভারতের ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের উপর আস্থা প্রকাশ করেছে। এটি চলতি বছরে ভারতের জন্য তৃতীয় আন্তর্জাতিক রেটিং আপগ্রেড।