এইচ-১বি ভিসা নীতির প্রভাব এবং শেয়ারবাজারের অস্থিরতা:
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলির মধ্যে একটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এইচ-১বি ভিসা নীতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসার ফি এক লক্ষ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৫-৯০ লক্ষ টাকা) করা হয়েছে, যা ভারতীয় আইটি শিল্পে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এই ঘোষণার পর সোমবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা যায়, এবং নিফটি-আইটি সূচক প্রায় তিন শতাংশ কমে যায়। টিসিএস, ইনফোসিস, উইপ্রো, এইচসিএল টেক এবং টেক মাহিন্দ্রার মতো শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম চার থেকে ছয় শতাংশ পর্যন্ত নেমে আসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ আইটি খাতের অনসাইট-অফশোর মডেলকে ব্যাহত করতে পারে এবং মুনাফার উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ফি বৃদ্ধির ফলে অর্থনৈতিক এবং মানবিক উভয় ক্ষেত্রেই বড় প্রভাব পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর 'স্বদেশী' আহ্বান এবং জিএসটি সংস্কার:
শেয়ারবাজারে অস্থিরতার মধ্যেও, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী 'স্বদেশী' পণ্য ব্যবহারের উপর জোর দিয়ে একটি নতুন অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। তিনি দেশবাসীকে ভারতে তৈরি পণ্য কেনার আহ্বান জানিয়েছেন, যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং ভারতীয় উদ্যোক্তাদের উপকৃত করবে। পাশাপাশি, উৎসবের মরসুমের আগে তিনি জিএসটি কাঠামোকে সরলীকরণ করে নতুন দুটি করের হার (৫% এবং ১৮%) ঘোষণা করেছেন। এই নতুন জিএসটি নীতি ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই সংস্কারের ফলে খাদ্য, ওষুধ, সাবান, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবন বীমার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সস্তা হবে, যা মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়াবে এবং অভ্যন্তরীণ ভোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
রাজ্যগুলির রাজস্ব পরিস্থিতি এবং কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি:
ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষক (CAG) এর ২০২২-২৩ অর্থবছরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৬টি রাজ্য রাজস্ব উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে। এর মধ্যে উত্তর প্রদেশ (৩৭,০০০ কোটি টাকা), গুজরাট (১৯,৮৬৫ কোটি টাকা) এবং ওড়িশা (১৯,৪৫৬ কোটি টাকা) শীর্ষে রয়েছে। তবে, ১২টি রাজ্য রাজস্ব ঘাটতির সম্মুখীন হয়েছে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গ ২৭,২৯৫ কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
এদিকে, হুরুন ইন্ডিয়া ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী, ভারতে উচ্চ আয়ের করদাতাদের সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ছে। গত ছয় বছরে ১ কোটি টাকার বেশি আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়ে ২.২৭ লক্ষে পৌঁছেছে। এই তথ্য ভারতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিস্তার নির্দেশ করে এবং বিলাসবহুল পণ্যের বাজারে এর বড় প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যান্য অর্থনৈতিক খবর:
- জাপানের সংস্থা 'রেটিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনফরমেশন' (R&I) ভারতের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা 'BBB' থেকে বাড়িয়ে 'BBB+' করেছে। সংস্থাটি মনে করছে, আমেরিকার শুল্কের প্রভাব সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং কার্যকর সরকারি নীতির কারণে ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে।
- নেটওয়েব টেকনোলজিস ইন্ডিয়া লিমিটেডের শেয়ার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, কারণ তারা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) জিওপি অ্যাক্সিলেরেটেড সিস্টেমের জন্য ৪৫০ কোটি টাকার একটি বড় অর্ডার পেয়েছে।