জিএসটি সংস্কার ও 'জিএসটি সাশ্রয় উৎসব' শুরু
ভারত সরকার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) হারের বড় ধরনের সংস্কার কার্যকর করেছে। এই সংস্কারের ফলে সাবান, ছোট গাড়ি সহ শতাধিক পণ্যে কর কমানো হয়েছে এবং কর কাঠামোকে মূলত দুটি স্তরে (৫ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ) বিভক্ত করা হয়েছে। বিলাসবহুল ও 'সিন গুডস'-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ হার বজায় রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই পদক্ষেপকে 'জিএসটি সাশ্রয় উৎসব' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত ভারতীয়দের জন্য দ্বিগুণ আশীর্বাদ বয়ে আনবে বলে দাবি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল শিল্পমহলকে এই কর কমানোর সম্পূর্ণ সুবিধা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বাজারে চাহিদা বাড়বে, ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিকভাবে ভারতের শিল্পক্ষেত্র লাভবান হবে।
আত্মনির্ভর ভারত ও বিদেশি পণ্য বর্জনের ডাক
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরতাকে ভারতের প্রকৃত শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে 'আত্মনির্ভর ভারত' গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ভারতীয় নাগরিকদের বিদেশি পণ্য বর্জন করে 'মেড ইন ইন্ডিয়া' পণ্য ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আহ্বান আরও জোরালো হয়েছে। মোদি দোকানদারদেরও ভারতে তৈরি পণ্য বিক্রিতে মনোযোগ দিতে বলেছেন, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক ও পীযূষ গোয়ালের ওয়াশিংটন সফর
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জট এখনও কাটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর বাণিজ্য উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাশিয়ার থেকে তেল কেনার অভিযোগে ওয়াশিংটন ভারতীয় পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক চাপিয়েছে এবং এইচ-১বি ভিসার আবেদনে বছরে এক লাখ ডলার ফি ঘোষণার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে, যা ভারতীয় দক্ষ কর্মীদের প্রভাবিত করতে পারে। এই টানাপোড়েন প্রশমনের অংশ হিসেবে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল শীঘ্রই ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি বাণিজ্যচুক্তি, বিনিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে দু'দেশের আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করবেন।
তরুণ প্রজন্মের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
ভারতীয় তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন জেড (Gen Z), শেয়ারবাজারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ নতুন ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যা এই প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, মোবাইল অ্যাপস এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব তরুণদের বিনিয়োগের প্রতি আকৃষ্ট করছে। যদিও এটি অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াচ্ছে, ক্লিয়ারট্যাক্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই বয়সগোষ্ঠীর বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
জাপানি সংস্থা কর্তৃক ভারতের ক্রেডিট রেটিং আপগ্রেড
জাপানের একটি মূল্যায়ন সংস্থা, রেটিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনফরমেশন (R&I), ভারতের ক্রেডিট রেটিং 'BBB' থেকে বাড়িয়ে 'BBB+' করেছে। সংস্থাটি মনে করে যে দীর্ঘ মেয়াদে ভারতের ঋণ শোধের সক্ষমতার উন্নতি হয়েছে এবং আগামী দিনে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে। R&I তাদের মূল্যায়নে জনসংখ্যার সুবিধা, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং কার্যকরী সরকারি নীতিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই নিয়ে চলতি বছরে তিনটি আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন সংস্থা ভারতের রেটিং বাড়াল, যা আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকারের জন্য স্বস্তির খবর।