১. ভারতের বৈদেশিক ঋণের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি:
রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত ভারতের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৫ লাখ কোটি টাকা। এটি গত এক বছরে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে একজন ভারতীয় নাগরিকের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, যা এক দশক আগেও অকল্পনীয় ছিল। চলতি অর্থবছরেই সরকারকে ঋণের সুদ মেটাতে প্রায় ১২.৭৬ লাখ কোটি টাকা খরচ করতে হতে পারে। যদিও সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার দাবি করছে, ঋণের এই পরিসংখ্যান সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
২. জেন জেড প্রজন্মের বিনিয়োগ এবং অর্থনীতির উপর প্রভাব:
ভারতীয় তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে 'জেন জেড' (১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম), শেয়ার বাজারে তাদের বিনিয়োগ অভ্যাসে এক বিস্ময়কর পরিবর্তন এনেছে। ক্লিয়ারট্যাক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ২৫ বছরের কম বয়সী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমার শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ নতুন ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে তরুণরা এখন শেয়ার বাজার, ট্রেডিং এবং ক্যাপিটাল গেইনের দিকে ঝুঁকছে। এই বাড়তি তারল্য কর্পোরেট সংস্থার জন্য মূলধন সংগ্রহ সহজ করছে এবং ইভি, গ্রীন এনার্জি, ফিনটেক, বায়োটেক ও টেক-স্টার্টআপের মতো নতুন খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তবে, ক্লিয়ারট্যাক্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বয়সগোষ্ঠীর বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির হার তুলনামূলকভাবে বেশি, যা আর্থিক শিক্ষার প্রসারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
৩. জাপানি সংস্থার দ্বারা ভারতের ক্রেডিট রেটিং আপগ্রেড:
জাপানের একটি স্বনামধন্য রেটিং সংস্থা 'রেটিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনফর্মেশন' (R&I) ভারতের ক্রেডিট রেটিং 'BBB' থেকে 'BBB+' এ উন্নীত করেছে। শুক্রবার এই খবর প্রকাশ করে ভারত সরকার জানিয়েছে যে, সংস্থাটি দীর্ঘমেয়াদে ভারতের ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা আরও এক ধাপ উন্নত হয়েছে বলে মনে করছে। R&I-এর মতে, ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি, জনসংখ্যার সুবিধা, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং কার্যকরী সরকারি নীতি এই আপগ্রেডের প্রধান কারণ। আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই পদক্ষেপ ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।
৪. মার্কিন শুল্ক এবং এইচ-১বি ভিসা ফি বৃদ্ধির প্রভাব:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় পণ্য আমদানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যার ফলে ভারতীয় রুপির মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে (৮৮.১৬ রুপি প্রতি ডলার) নেমে এসেছে। বৈদেশিক তহবিলের বহিঃপ্রবাহ এবং ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে রুপির ওপর চাপ বাড়ছে। এছাড়াও, ট্রাম্প প্রশাসনের এইচ-১বি ভিসা আবেদনে নতুন করে ১ লক্ষ ডলারের ফি আরোপের সিদ্ধান্ত ভারতীয় প্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষ পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। নাসকম (NASSCOM) জানিয়েছে যে, এই নীতি ভারতীয় নাগরিকদের ওপর প্রভাব ফেলবে এবং চলমান প্রকল্পগুলো ব্যাহত হবে।
৫. খনিজ পণ্যে ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধি:
খনিজ পণ্য (Indian Minerals) এখন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে আমেরিকায় খনিজ রপ্তানির মূল্য প্রায় ১,২৭,৫৯৯ কোটি টাকা ছুঁয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫.৫% বৃদ্ধি দেখিয়েছে। তামা, জিঙ্ক এবং অন্যান্য ধাতব খনিজগুলির চাহিদা আমেরিকায় বেশি।