মার্কিন শুল্ক প্রত্যাহারের সম্ভাবনা: ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য স্বস্তির খবর
ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (CEA) ভি. আনন্দ নাগেশ্বরন বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নভেম্বরের শেষ নাগাদ ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ দণ্ডমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ৮-১০ সপ্তাহের মধ্যে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে শুল্ক সংক্রান্ত বিবাদের সমাধান হয়ে যাবে। নাগেশ্বরন কলকাতার একটি অনুষ্ঠানে বলেন যে, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত না হলেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিচার করে এটি তার ব্যক্তিগত অনুমান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত আগস্ট মাসে ভারতের কিছু রপ্তানি পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ দণ্ডমূলক শুল্ক আরোপ করেছিল এবং পরে রাশিয়ার সাথে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্যের কারণে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়, যা মোট শুল্ককে ৫০ শতাংশে উন্নীত করে। এই অতিরিক্ত শুল্কের কারণে বিশেষ করে টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং কিছু খাদ্যপণ্য সহ শ্রমনির্ভর খাতগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাগেশ্বরন আরও জানান যে, ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কও কমে ১০-১৫ শতাংশে নামতে পারে। তার এই মন্তব্যের পর ভারতের শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়।
ওয়াশিংটন এবং নয়াদিল্লির মধ্যে বাণিজ্যিক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি, ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়াল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সাথে দিল্লিতে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠক শুল্ক সমস্যা সমাধানের দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতে কোটিপতি পরিবারের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
ভারতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবণতার আরেকটি লক্ষণ হলো কোটিপতি পরিবারের সংখ্যায় দ্রুত বৃদ্ধি। মার্সিডিজ-বেঞ্জ হুরুন ইন্ডিয়া ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী, ভারতে ৮.৫ কোটি টাকা বা তার বেশি সম্পদের অধিকারী পরিবারের সংখ্যা ৪.৫৮ লক্ষ থেকে বেড়ে ৮.৭১ লক্ষ হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে কোটিপতি পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির শক্তিকে প্রতিফলিত করে।
এই বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে শেয়ার বাজারের লাভ, নতুন ব্যবসার প্রসার এবং রাজ্যগুলির অর্থনৈতিক অগ্রগতি। রাজ্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্র শীর্ষে রয়েছে, যেখানে ১.৭৮ লক্ষেরও বেশি পরিবারের কমপক্ষে ৮.৫ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। মুম্বাইকে ভারতের কোটিপতিদের রাজধানী বলা হচ্ছে, যেখানে ১.৪২ লক্ষ কোটিপতি পরিবার বাস করে। এরপর রয়েছে দিল্লি (৭৯,৮০০ পরিবার) এবং তামিলনাড়ু (৭২,৬০০ পরিবার)। বেঙ্গালুরুতেও দ্রুত কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে প্রায় ৩১,৬০০ কোটিপতি পরিবার রয়েছে। আহমেদাবাদ, পুণে, হায়দ্রাবাদ এবং গুরুগ্রামের মতো শহরগুলিও দ্রুত উদীয়মান অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ভিসা বাতিল
তবে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে একটি নতুন চ্যালেঞ্জও দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফেন্টানিল উপাদান পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে কিছু ভারতীয় ব্যবসায়ী এবং কর্পোরেট নেতৃত্বের ভিসা বাতিল করেছে। দিল্লির মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে যে, বিপজ্জনক সিন্থেটিক মাদকদ্রব্য থেকে আমেরিকানদের নিরাপদ রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, মার্কিন শুল্ক প্রত্যাহারের সম্ভাবনা এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির খবর ভারতীয় অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা নিয়ে এসেছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান।