GK Ocean

📢 Join us on Telegram: @current_affairs_all_exams1 for Daily Updates!
Stay updated with the latest Current Affairs in 13 Languages - Articles, MCQs and Exams

September 17, 2025 ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি, চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ভারতের উত্থান

গত ২৪-৪৮ ঘণ্টায় ভারতীয় অর্থনীতি এবং ব্যবসা সংক্রান্ত প্রধান খবরগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা, যা শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির দিকে ইঙ্গিত করছে। এছাড়াও, ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে তার অবস্থান সুদৃঢ় করেছে, যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতি এবং ব্যবসা সম্পর্কিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে, যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাসঙ্গিক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া এবং ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে তার ক্রমবর্ধমান ভূমিকা।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় নতুন আশা

দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে দিল্লিতে ইতিবাচক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ এবং ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়ালের মধ্যে এই বৈঠক হয়। উভয় পক্ষই আলোচনাকে 'ইতিবাচক' এবং 'ভবিষ্যৎমুখী' হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এই আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছে, যার মধ্যে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে অতিরিক্ত ২৫% শুল্কও রয়েছে। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কে এক ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল এবং ভারতের বিমান রপ্তানি ১২-১৪% কমে গিয়েছিল। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক সতর্ক করেছেন যে শুল্ক না কমালে ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে উঠবে। এই শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে চিংড়ি শিল্পে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, যেখানে অন্ধ্রপ্রদেশে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে কৃষি ও দুগ্ধ খাত এখনও একটি বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কৃষি বাজারে প্রবেশাধিকার চাইলেও, ভারত খাদ্য নিরাপত্তা এবং কোটি কোটি ক্ষুদ্র কৃষকের জীবিকার কথা বিবেচনা করে এই খাতকে সুরক্ষিত রাখতে চায়। যদিও এই আলোচনাকে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো বৈঠক হিসেবে দেখছে না, তবে এটিকে সম্ভাব্য সমঝোতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ভারতের উত্থান

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত ১১ বছরে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ৪.১৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৪ সালের তুলনায় প্রায় ১০৫% প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। ২০২৫ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৪% দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান প্রমাণ করে। করোনা মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের মতো বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও ভারত তার অর্থনৈতিক গতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক

রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা বাড়ছে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন যে, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে। বিশেষ করে BIMSTEC কাঠামোর আওতায় আঞ্চলিক একীভূতকরণে উভয় দেশই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে চাল রপ্তানি ১৬ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৩৬১ কোটি ডলার হয়েছে, যা ২,১৭৪.১৬% প্রবৃদ্ধি দেখায়।

Back to All Articles