ভারত-মার্কিন বাণিজ্য উত্তেজনা ও আলোচনা
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছে, যা ভারতের রপ্তানি খাতকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক সতর্ক করে বলেছেন যে, ভারত যদি শুল্ক না কমায় তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ভারত মার্কিন বাজার থেকে সুবিধা নিলেও নিজেদের বাজার মার্কিন পণ্যের জন্য বন্ধ রাখে এবং মার্কিন ভুট্টা আমদানি করতে অস্বীকার করে, যদিও ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা রয়েছে [১০, ১২, ২১]।
এই শুল্কের কারণে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের চিংড়ি রপ্তানি প্রায় ২৫ হাজার কোটি রুপি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, এবং বিমান রপ্তানিতেও ধস নেমেছে। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার দিকে বাজার ঘুরছে [১১, ২৩]। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে দায়ী করা হয়েছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করছে বলে তাদের অভিযোগ [১২, ২১]।
এই উত্তেজনার মধ্যেই, আজ নয়াদিল্লিতে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের প্রধান ব্রেন্ডন লিঞ্চ এই আলোচনায় অংশ নিতে ভারতে আসছেন [১৪, ১৬, ২৭]। ভারতের প্রধান বাণিজ্য আলোচক রাজেশ আগরওয়াল দ্রুত আলোচনার অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন [১৬]।
ভারতের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ঘোষণা করেছেন যে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত একটি ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তিনি ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে নয়াদিল্লিতে এক সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং নেক্সট জেনারেশন জিএসটি সংস্কারের ফলে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন [৮, ১৫]।
ভারত-ইসরায়েল বিনিয়োগ চুক্তি
ভারত সম্প্রতি ইসরায়েলের সাথে একটি ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা [১৭, ২০, ২৫]। এই চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে [১৭]।
ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমে (UPI) বিভ্রাট
ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম ইউপিআই (UPI)-এ ঘন ঘন বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ডিজিটাল লেনদেনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কারণে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-এর আপটাইম ড্যাশবোর্ড মার্চ ২০২৫ সালের পর থেকে আপডেট করা হয়নি [২৪]।