ভারতীয় অর্থনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি ৭.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান প্রধান অর্থনীতিতে পরিণত করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, 'নেক্সটজেন জিএসটি' সংস্কারের ফলে অনেক পণ্যের উপর কর কমেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ করে তুলছে।
মূল্যস্ফীতিতে স্বস্তি ও জিএসটি সংস্কারের প্রভাব
ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (BoB) এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতি ৩.১ শতাংশে স্থির হতে পারে। খাদ্যপণ্যের দাম হ্রাস এবং জিএসটি হ্রাসের প্রভাবের কারণে এটি সম্ভব হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আগস্ট মাসে সিপিআই মূল্যস্ফীতি ২.০৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের ৩.৭ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। খাদ্যপণ্যের দাম টানা তৃতীয় মাসের মতো কমেছে, যার প্রধান কারণ হল সবজি, ডাল এবং মশলার মূল্য হ্রাস। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, জিএসটি সংস্কার কার্যকরভাবে ভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিলে বার্ষিক সিপিআই মূল্যস্ফীতি ৭০-৯০ বেসিস পয়েন্ট কমাতে পারে। কেয়ারএজের প্রধান অর্থনীতিবিদ সিনহা ২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ৩.১% থেকে কমিয়ে ২.৭% করেছেন। অন্যদিকে, ক্রিসিলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ধর্মকীর্তি যোশী এই পূর্বাভাস ৩.৫% থেকে কমিয়ে ৩.২% করেছেন, যা মুদ্রানীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
মার্কিন শুল্ক এবং বাণিজ্য সম্পর্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় বলেছেন যে, ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল কারণ ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, ভারত রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা ছিল। এর প্রতিক্রিয়ায়, ট্রাম্প ভারতের কিছু রপ্তানির ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেন, যা ভারতীয় কার্পেট শিল্পের মতো শ্রম-নিবিড় খাতগুলিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কারণে ভারতের কার্পেট শিল্প গভীর সংকটে পড়েছে এবং ভাদোহীর কার্পেট রপ্তানিকারকদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তবে, ট্রাম্প ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য বাধা নিরসনে আলোচনা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ভারতীয় কর্মকর্তারাও নভেম্বরের মধ্যে আমেরিকার সাথে প্রথম দফার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদী।
এছাড়াও, বিমানবন্দর সংলগ্ন হোটেলগুলি এখন বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে, যা আতিথেয়তা শিল্পের জন্য নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে। চিটফান্ড সেক্টরের ডিজিটাল সংস্কার এবং জিএসটি কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পায় এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা হয়।