মার্কিন শুল্ক এবং ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে ভারতের অর্থনীতিতে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন। তিনি জানিয়েছেন যে, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ০.২-০.৩ শতাংশ বিন্দু ধাক্কা খেতে পারে [১০]। যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, জিএসটি কমানোর কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি এই ধাক্কা কিছুটা প্রশমিত করতে পারে [১০]। সম্প্রতি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের কয়েক সপ্তাহ পর বাণিজ্যিক উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য বাধা দূর করার আশা জাগিয়েছে [১৭]। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ট্রাম্পের ইতিবাচক বার্তার প্রত্যুত্তর দিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য জটিলতা কাটানোর সম্ভাবনা বাড়িয়েছে [১৬]। তবে, মার্কিন বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ না করলে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম [১৩]। ট্রাম্পের প্রশাসন অবশ্য অতীতেও চুক্তিবদ্ধ দেশগুলিকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় দিয়েছে [১৩]।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ:
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) ঋণ পরিশোধ না করা গ্রাহকদের ফোন লক করার একটি নতুন নিয়ম আনার পরিকল্পনা করছে। ঋণদাতাদের ক্ষমতা বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে [১৪]। এছাড়াও, আরবিআই মুম্বইয়ের নরিম্যান পয়েন্টে ৪.২ একর জমি ৩,৪৭২ কোটি টাকায় কিনেছে একটি নতুন অত্যাধুনিক অফিস ভবন নির্মাণের জন্য। এতদিন বিভিন্ন স্থানে ভাড়া করা অফিসে আরবিআইয়ের বিভিন্ন দপ্তর পরিচালিত হত, যা এবার এক ছাদের নিচে আনা হবে [২৫]। একই সাথে, আরবিআই ১২০টি গ্রেড বি অফিসার পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যা আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি সুযোগ এনেছে [১৫]।
ভারত-ইসরায়েল দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি:
ভারত ও ইসরায়েল পারস্পরিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্পর্ক আরও উন্নত করতে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি (বিআইএ) স্বাক্ষর করেছে [১২]। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ দিল্লিতে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির লক্ষ্য সাইবার নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, উদ্ভাবন এবং উন্নত প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা [১২]। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী এই চুক্তিকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন [১২]।
শেয়ার বাজার এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচক:
ভারতীয় শেয়ার বাজার মিশ্র প্রবণতা দেখিয়েছে। সেনসেক্স এবং নিফটি সামান্য উত্থান বা পতন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে কিছু নির্দিষ্ট স্টক লাভবান হয়েছে এবং কিছু লোকসান করেছে [৩, ৫]। ফিজ রেটিংস ভারতের অর্থনীতির বিষয়ে আশা প্রকাশ করে চলতি বছরে আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৬.৯% করেছে, যা পূর্বে ৬.৫% ছিল [১০]।