শেয়ারবাজারের হালচাল: তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উত্থান
মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ভারতীয় শেয়ারবাজার ইতিবাচক ধারায় বন্ধ হয়েছে। সেনসেক্স ৩১৪ পয়েন্ট বা ০.৩৯ শতাংশ বেড়ে ৮১,১০১.৩২ এ দাঁড়িয়েছে এবং নিফটি ৫০ ৯৫ পয়েন্ট বা ০.৩৯ শতাংশ বেড়ে ২৪,৮৬৮.৬০ এ পৌঁছেছে। এই উত্থানের প্রধান কারণ ছিল তথ্যপ্রযুক্তি (IT) খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স, বিশেষ করে ইনফোসিসের শেয়ার বাইব্যাক ঘোষণার পর। ইনফোসিসের শেয়ার প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে এবং এটি সেনসেক্সের উত্থানে ২০০ পয়েন্টের বেশি অবদান রেখেছে। টিসিএস, টেক মাহিন্দ্রা এবং এইচসিএল টেক-এর মতো অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিও ভালো ফল করেছে। বিএসই মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ সূচকগুলিও যথাক্রমে ০.২০ শতাংশ এবং ০.২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারত-ইসরায়েল দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি
অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে ভারত ও ইসরায়েল নিউ দিল্লিতে একটি দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি (BIT) স্বাক্ষর করেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ইসরায়েল প্রথম অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (OECD) সদস্য রাষ্ট্র, যার সাথে ভারত তার নতুন বিনিয়োগ চুক্তি কাঠামোর অধীনে BIT স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি পারস্পরিক বিনিয়োগ সহজ করবে, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সুরক্ষা দেবে এবং একটি সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)-এর ভিত্তি স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের বেকারত্বের হার G20 দেশগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবিয়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন যে, ভারতের বেকারত্বের হার মাত্র ২%, যা G20 দেশগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন। এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সরকারের দূরদর্শী প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। ন্যাশনাল ক্যারিয়ার সার্ভিস (NCS) এবং পিএম বিশিত ভারত রোজগার যোজনা (PM-VBRY)-এর মতো উদ্যোগগুলি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করছে।
মার্কিন শুল্কের প্রভাব এবং GST সংস্কার
প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন জানিয়েছেন যে, ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্ক দ্বিগুণ হওয়ায় চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি ০.৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে, দেশীয় কারণ যেমন GST হার হ্রাস এবং প্রথম ত্রৈমাসিকে শক্তিশালী জিডিপি বৃদ্ধি (৭.৮%) অর্থনীতিকে সমর্থন যোগাচ্ছে। সরকার সম্প্রতি ৩৭৫টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর GST কমিয়েছে, যা জিডিপি ০.২%-০.৩% বৃদ্ধি করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুদ্রাস্ফীতি এবং FMCG খাতে নতুন MRP
আগস্ট মাসে ভারতের ভোক্তা মুদ্রাস্ফীতি সম্ভবত বেড়েছে, যা নয় মাসের পতনকে শেষ করেছে। আগস্টের জন্য মধ্যম পূর্বাভাস ২.১০ শতাংশ। এদিকে, সরকার প্যাকেজড পণ্য প্রস্তুতকারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জিএসটি পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে, কোম্পানিগুলিকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত বা স্টক শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো, অবিক্রিত পণ্যের প্যাকেজে সংশোধিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) প্রদর্শন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভোক্তাদের জন্য সঠিক মূল্য চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং বাজারে বিভ্রান্তি কমবে।
হস্তশিল্পে GST হ্রাস এবং বিমা খাতের বৃদ্ধি
সরকার বিভিন্ন হস্তশিল্পের উপর জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ভারতীয় হস্তশিল্পকে আরও সাশ্রয়ী এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা, যা কারিগরদের উৎসাহিত করবে এবং রপ্তানি বাড়াবে। এছাড়াও, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলি আগস্ট ২০২৫-এ নতুন ব্যবসার প্রিমিয়ামে ৬.০১ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে, যা একক এবং অ-একক উভয় প্রিমিয়াম পলিসির উচ্চ বিক্রয়ের কারণে হয়েছে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আশাবাদ
বিএসই (BSE)-এর সিইও সুন্দরারামন রামামূর্তি ভারতের অর্থনীতির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পথ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPIs) বিক্রয় সত্ত্বেও দেশীয় বিনিয়োগকারী এবং নীতি সংস্কারের কারণে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচও ভারতের অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে "আকর্ষণীয়" বলে প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন যে ভারতের ৬% প্রবৃদ্ধির হার আরও ত্বরান্বিত হবে।
নেপালের অস্থিরতা এবং ভারতে বিনিয়োগ
নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থে প্রভাব ফেলতে পারে। এটি সীমান্ত বাণিজ্য, জ্বালানি প্রকল্প এবং পর্যটনকে ব্যাহত করতে পারে। অন্যদিকে, মার্সিডিজ-বেঞ্জ জানিয়েছে যে তারা ভারতকে একটি "অগ্রাধিকার বাজার" হিসাবে বিবেচনা করে ভারতে বিনিয়োগ চালিয়ে যাবে, এমনকি ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার মধ্যেও তাদের কোনও পরিকল্পনা স্থগিত করবে না।